ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি প্রথমে প্রতিষ্ঠিত হয় ওয়াহেদপুর (দেবীপুর) নিবাসী মৌলভী আবদুর রাজ্জাক প্রাক্তন এম, এল, এ, সাহেবের প্রথমা স্ত্রী লেমুয়া নিবাসী টুনাগাজী পাটোয়ারী বাড়ীর জনাব ওয়াসিল মোক্তেয়ার এর তৃতীয়া মেয়ে জনাবা শরাফাতের নেছার প্রচেষ্টায় ওয়াহেদপুরস্থ মৌলভী বাড়ীর আঙ্গিনায় ১৯০০ ইং সালের এক শুভ প্রভাতে। পরবর্তীতে এক পুত্র সন্তান রেখে জনাবা শরাফাতের নেহা ইহকাল ত্যাগ করেন। জনাবার মৃত্যুর কারনে ২/১ বৎসর ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি সাময়িক বন্ধ থাকার পর মৌলভী আবদুর রাজ্জাক সাহেবের দ্বিতীয়া স্ত্রী (লস্কর হাট) মোটবী মুন্সী বাড়ী নিবাসী মৌলভী আশ্রাফ আলী মুন্সীর দ্বিতীয়া মেয়ে জনাবা শরাফাতের নেছা (২য় শরাফাতের নেছা)। পূনরায় ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি চালু করেন। উল্লেখ্য যে, দ্বিতীয়া শরাফাতের নেছা শহীদ মেজর ছালাহ উদ্দিনের সম্মানিতা নানী।
জনাবা দ্বিতীয়া শরাফাতের নেছা দীর্ঘদিন পরিচালনার পর ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি বুঝিয়ে দেন প্রথমা শরাফাতের নেছার রেখে যাওয়া (একমাত্র পুত্র সন্তান) পুত্র বধু হাকিম মৌলভী আবদুর রউফ সাহেবের ধার্মিকা স্ত্রী বঙ্গের অলিকুল শিরমণি দুধমূখার পীর হযরত মাওলানা মরহুম এছহাক সাহেবের মেঝে মেয়ে পীরজাদী সাজেদা খাতুন এর হাতে ১৯৩০ ইং সালের প্রথম দিকে।
পীরজাদী সাজেদা খাতুন তখন থেকে অদ্যাবধি তাঁর নিজ বাড়ীর আঙ্গিনায় মাদ্রাসাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছেন সম্পূর্ণ অবৈতনিক ও চাঁদামুক্ত হিসেবে। যেহেতু মাদ্রাসাটি সূচনা থেকে অবৈতনিক ও সম্পূর্ণ চাঁদামুক্ত দেহেতু মাদ্রাসার উল্লেখযোগ্য কোন সম্পদ নেই। তবে হাকিম মৌলভী আবছর রউফ সাহেবের দানকৃত ৪ শতাংশ জমি ও শহীদ মেজর ছালাহ উদ্দিনের মায়ের দেয়া ১২ শতাংশ জমি এবং ২০/২৫ জন ছাত্রছাত্রী বসতে পারে মত দোচালা একটি টিনের ঘর আছে। অল্প সম্পদ ও ছোট ঘর থেকে বের হয়ে চলছে দীর্ঘ ৯৫ বৎসর ব্যাপী হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী পবিত্র কোরআন ও ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা গ্রহণ করে। ফোরকানিয়া মাদ্রাসার বর্তমান পরিচালিকা বর্তমান জমানার অনন্যা ধামিকা জিন্দা অলি পীরজাদীর বর্তমানে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছে গেছেন।
তিনি তাঁর দীর্ঘ ৬৫ বৎসরের পরিশ্রম-এর মূল্যায়ন দাবী করেেছন তাঁর প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, এলাকাবাসী ও দেশ-বিদেশী সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটিকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য সকলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।